রবিবার ৩ আগস্ট ২০২৫ - ১২:৩১
মাওলানা আলী আব্বাস সাহেব

কারবালার পদযাত্রা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়-এটি হলো ন্যায়, সত্য, ঐক্য ও মানবতার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আধুনিক সভ্যতার কোলাহলে মানুষ ক্রমেই ভুলে যাচ্ছে নৈতিকতার শাশ্বত আহ্বান। কিন্তু ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যা যুগে যুগে মানবতার আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তেমনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত হলো ইমাম হুসাইন (আ.)-এর কুরবানির মহিমা, যার চল্লিশতম দিনে অনুষ্ঠিত হয় আরবাঈনের পদযাত্রা। লাখো মানুষ নানা দেশ ও সংস্কৃতি থেকে এসে পায়ে হেঁটে পৌঁছান কারবালার পবিত্র মাটিতে।

এই পদযাত্রা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়-এটি হলো ন্যায়, সত্য, ঐক্য ও মানবতার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক। বর্তমান অস্থির ও বিভক্ত পৃথিবীতে, আরবাঈনের পদযাত্রা যেন আশুরার জীবন্ত বার্তা হয়ে মানুষের অন্তরে নৈতিক সাহস জাগিয়ে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটে, আমরা কথা বলেছি ধর্মীয় আলেম আব্বাস আলী খান সাহেব-এর (মুবাল্লিগ ও পেশ ইমাম পশ্চিম বঙ্গ ভারত) সঙ্গে, যিনি তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের সামনে উন্মোচন করেছেন এই মহাযাত্রার তাৎপর্য।

সাক্ষাৎকার

আববাস আলী খান সাহেব, প্রথমেই জানতে চাই, আরবাঈনের পদযাত্রা বলতে আমরা কী বুঝি?

আব্বাস আলী খান: ধন্যবাদ হাসান ভাই। আরবাঈনের পদযাত্রা হলো ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে, অর্থাৎ ২০ শাফর, লাখ লাখ মানুষ কারবালা অভিমুখে পায়ে হেঁটে যাওয়া। এটি শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানবতার, ন্যায়বিচারের ও সত্যের পথে অঙ্গীকারের এক জীবন্ত প্রতীক।

বর্তমান আধুনিক যুগে, এই পদযাত্রার গুরুত্ব কোথায়?

আব্বাস আলী খান: আজকের দুনিয়ায় আমরা অন্যায়, দমন-পীড়ন, যুদ্ধ ও ভোগবাদে আক্রান্ত। আরবাঈনের পদযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সত্যের জন্য ত্যাগ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চিরকাল প্রাসঙ্গিক। এটি আশুরার বার্তাকে জীবন্ত করে তোলে-যা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নৈতিকতার পক্ষে অবস্থান।

এই পদযাত্রায় মানুষ কেন এত দূর হেঁটে যায়?

আব্বাস আলী খান: হাঁটা এখানে প্রতীকী। আমরা যখন কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটে যাই, তখন আমরা কষ্ট ও ধৈর্যের মাধ্যমে ইমাম হুসাইনের (আ.) পথ অনুসরণের অঙ্গীকার প্রকাশ করি। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বলছে-আমরা আপনার ন্যায়বিচারের পতাকা ধরে রাখব।

পদযাত্রায় সামাজিক ও মানবিক দিকগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আব্বাস আলী খান: খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পদযাত্রায় ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গরিব-ধনী কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই একে অপরকে বিনা স্বার্থে সেবা করে। খাবার, পানি, আশ্রয়—সবকিছু বিনামূল্যে দেওয়া হয়। আধুনিক যুগে এ ধরনের নিঃস্বার্থ মানবিক ঐক্য বিরল।

আরবাঈনের পদযাত্রা থেকে আমরা আধুনিক প্রজন্ম কী শিখতে পারি?

আব্বাস: আমরা শিখতে পারি সাহস, আত্মত্যাগ, ঐক্য এবং মানবিক ভালোবাসা। শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিক মূল্যবোধ এখান থেকে গ্রহণ করা যায়।

শেষ প্রশ্ন, আপনি ব্যক্তিগতভাবে এই পদযাত্রাকে কিভাবে অনুভব করেন?

আব্বাস: আমার কাছে এটি শুধু একটি ভ্রমণ নয়, এটি আত্মার শুদ্ধি। প্রতিটি পদক্ষেপে আমি অনুভব করি যেন ইমাম হুসাইনের (আ.) আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি। এটি আমার বিশ্বাসকে শক্ত করে এবং মানবতার সেবায় আমাকে উদ্বুদ্ধ করে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মজিদুল ইসলাম শাহ

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha